The Power of Positive Thinking by Norman Vincent Peale

The Power of Positive Thinking by Norman Vincent Peale

The Power of Positive Thinking by Norman Vincent Peale, বিশ্বব্যাপী যে বইটি মুদ্রিত হয়েছে প্রায় ৫ মিলিয়ন বার এবং বিক্রিত হয়েছে ১৫ মিলিয়নের ও বেশী কপি। প্রতিনিয়ত জীবনের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে যারা প্রায়শই খেই হারিয়ে ফেলে, নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভাবতে শুরু করে যে তাদেরকে দিয়ে আসলেই কিছু সম্ভব নয় –  এই বইটি তাদের জন্য হতে পারে এক যাদুর কাঠি। 

এক কথায় যদি বলতে বলা হয়, সেক্ষেত্রে এই বইয়ের মূলমন্ত্র হচ্ছে , “যদি বিশ্বাস থাকে, তাহলে জীবনে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব”। লেখক এই বইতে প্রথমেই বলেছেন সবরকম দুশ্চিন্তা এবং নেতিবাচক চিন্তা ভাবনাকে বাদ দিয়ে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে। সব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মোকাবিলা করতে। যত কঠিন সমস্যাই সামনে আসুক না কেন, নিজেকে প্রস্তুত রেখে নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে “আমি পারব”। এই মানসিকতা জীবনে সফলতার হার অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। 

লেখক বইটি সম্পর্কে বলেছিলেন, “এই বইটি বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে মানুষের জীবনের কষ্ট, চ্যালেঞ্জ এবং টিকে থাকার লড়াই কে কেন্দ্র করে। বইটি ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখায়, খ্যাতি, ঐশ্বর্য বা প্রতিপত্তির মাধ্যম হিসেবে নয়। বরং পরাজয় কাটিয়ে জীবনে সার্থক সৃজনশীল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য বিশ্বাসের ব্যবহারিক প্রয়োগ হিসাবে।“ লেখক তার জীবনে দেখা অনেক মানুষ এবং ঘটনার উপর ভিত্তি করে এই বইটি লিখেছেন। যার প্রতিফলন বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে দেখা যায়। প্রতিটা অধ্যায় যে বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লেখক লিখেছেন, সেই বিষয় সম্পর্কিত নিজের জীবনে ঘটা বা দেখা কিছু ঘটনার কথা ও উল্লেখ করেছেন। 

বইটিতে লেখক তুলে ধরেছেন, কীভাবে ইতিবাচক বিশ্বাস করা শুরু করতে হয়, নিজের ব্যক্তিগত মানসিক শক্তি বাড়াতে হয়, দুশ্চিন্তা এবং নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে চলতে হয়, নিজের উপর বিশ্বাস রেখে ছোট বড় সব সফলতা অর্জন করা যায়, কীভাবে প্রাত্যহিক প্রার্থনা নিজেকে দিন দিন বিকশিত করতে পারে এবং আরও অনেক কিছু। 

এই বইতে যে ইতিবাচক শক্তির কথা বলা হয়েছে তার সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে ধর্মীয় গ্রন্থ ও স্রষ্টার উপর বিশ্বাস। আমরা আমাদের নিজেদের জীবনকে অনেক বেশী কঠিন করে ফেলি, যেখানে এই ইতিবাচক বিশ্বাস আমাদের জীবনের সব সমস্যাকে অনেকটাই সহজ করে দেয়। জীবনের অসুবিধা, কঠিন সমস্যা বা সংগ্রাম সব ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রস্তুত করার সাথে সাথে বিশ্বাস রাখতে হয় নিজের এবং স্রষ্টার উপর। দিনশেষে এই সবকিছু মিলিয়ে নিজের মধ্যে যে অন্তৰ্নিহিত শক্তিটা তৈরি হয়, সেটাই হয়ে ওঠে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। 

আত্নবিশ্বাসী হওয়া আর অহংকারী হওয়ার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু কেউ কোনো কারনে যদি হীনমন্যতায় ভোগে, তাহলে তার জন্য সামনে আগানো অনেকটা কঠিন হয়ে যায়। লেখকের মতে এই হীনমন্যতায় ভোগার উপরে মানুষের অতীত অভিজ্ঞতার হাত রয়েছে। যার ফলে মানুষ সবশেষে নিজের দক্ষতা বা যোগ্যতার উপর প্রশ্ন তোলে। কিন্তু নিজের স্রষ্টার উপর বিশ্বাস আর আত্নবিশ্বাস, এই দুটোর মেলবন্ধন মানুষকে এই হীনমন্যতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

মানুষের অবচেতন মন বরাবরই অনেক বেশী সজাগ। আর আমরা স্বভাবগতভাবে যেকোনো কিছুতে প্রথমেই নেতিবাচক চিন্তা করি। ফলশ্রুতিতে যেটা হয়, এই চিন্তা প্রভাব ফেলে আমাদের অবচেতন মনের উপরে এবং নিজেদের অজান্তেই আমরা আমাদের বিশ্বাস এবং কাজগুলোকে একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে আবদ্ধ করে ফেলি। এই গন্ডি থেকে নিজেদেরকে বের করে আনার পথপ্রদর্শক হতে পারে এই বই।

The Power of Positive Thinking আমাদেরকে শেখায় কিভাবে আমরা নিজের মনের সহজ শক্তি দিয়ে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি। বইতে উল্লেখিত একেকটি বিষয় এবং সে সম্পর্কিত উদাহরণ যে কাউকে উৎসাহিত করবে নিজের জীবনে এই ইতিবাচক বিশ্বাসের চর্চা করতে। যেটা একটু একটু করে জীবনে একসময় অনেক বড় বদল এনে দিতে পারে। 

Leave a comment